https://dailyinqilab.com/campus/news/927077
জেন্ডার সমতা ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রণয়ন ও সংস্কার যথেষ্ট নয়, সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতারও পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, বৈষম্য দূরীকরণ ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (সিজিডিএস) ও ইউএন উইমেন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সিজিডিএস-ইউএন উইমেন পলিসি ডায়লগ সিরিজ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের পরিচালক প্রফেসর ড. সানজীদা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন প্রফেসর কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং ইউএন উইমেন বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ নবনীতা সিনহা। অনুষ্ঠানে ‘Achieving Gender Equality before the Law in Bangladesh’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইন বিভাগের প্রফেসর ড. শাহনাজ হুদা।
ভিসি প্রফেসর ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা একটি রাষ্ট্রীয় বা আইনি উদ্যোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না। নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক পরিসরে সমতার চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় আইনকে কার্যকর করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
......
তিনি বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। শুধু শহরকেন্দ্রিক নীতি ও কর্মসূচির মাধ্যমে জেন্ডার বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়। সমাজের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের মধ্যেও নারী অধিকার, আইনি সুরক্ষা ও সমতার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
তরুণ প্রজন্মকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে ভিসি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; গবেষণা ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়াতেও তাদের সম্পৃক্ত হতে হবে। গবেষণাভিত্তিক পলিসি পেপার তৈরির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে সমাজে কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, তরুণদের জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একটি বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। জেন্ডার সমতার প্রশ্নে বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণা, নীতি-আলোচনা ও সামাজিক সচেতনতা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন আইন বিভাগের সহযোগী প্রফেসর ড. তাসলিমা ইয়াসমীন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সারা হোসেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী মাসুদা রেহেনা বেগম এবং উত্তরা ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের সহযোগী প্রফেসর ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ জয়শ্রী সমাদ্দার।
উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী প্রফেসর অদিতি সবুর অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। বিভাগের শিক্ষার্থী আলিমা জাইম ও ফারহানা আলী শুচি অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
আয়োজকরা জানান, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জেন্ডার সমতা, নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়নসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা ও গবেষণাকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই ‘সিজিডিএস-ইউএন উইমেন পলিসি ডায়লগ সিরিজ’ চালু করা হয়েছে।