ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক রাজিয়া সুলতানা গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ কানাডায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক রাজিয়া সুলতানার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোক বাণীতে উপাচার্য বলেন, তিনি নিষ্ঠাবান শিক্ষক এবং বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ছিলেন। শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ অবদান এবং অসাধারণ সাহিত্যকর্মের জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। উপাচার্য মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
উল্লেখ্য, রাজিয়া সুলতানা ১৯৩৭ সালের ২৫ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৮ সালে তিনি বাংলায় স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৫৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮৫ সালে তিনি মধ্যযুগের কবি আবদুল হাকিমের জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে তিনি প্রাচীন ও মধ্যযুগের পাণ্ডুলিপি ও সাহিত্য বিষয়ে প্রথম গবেষক। রাজিয়া সুলতানা ১৯৮৫ সালে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। এর আগে তিনি বিভিন্ন সরকারি কলেজ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ১৯৯২ সালে তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।
রাজিয়া সুলতানার সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য গুলে বকাওলী (১৯৭০), আবদুল হাকিম রচনাবলী (১৯৮৯)। মোহাম্মদ আবদুল কাইউমের সাথে তিনি যৌথভাবে সম্পাদনা করেন আলাওল রচনাবলী (২০০৭) এবং প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা ভাষার অভিধান (২০০৭)। তাঁর অন্যান্য বইয়ের মধ্যে নজরুল-অন্বেষা (১৯৬৯), কথাশিল্পী নজরুল (১৯৭৫), আবদুল হাকিম: কবি ও কাব্য (১৯৮৭), সাহিত্য-বীক্ষণ (১৯৮৮) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
রাজিয়া সুলতানা 'সাহিত্যিক মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ প্রবন্ধসাহিত্য পুরস্কার' (২০২২), 'নজরুল পুরস্কার' (২০২৪)-সহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন।

২০/০৪/২০২৬
(মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম)
পরিচালক
জনসংযোগ দফতর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়