ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে অঙ্কিত জুলাই-গ্রাফিতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে পুনরায় রংকরণ/পুনর্লিখন কার্যক্রম আগামীকাল ১ আগস্ট ২০২৬ শনিবার শুরু হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম আগামীকাল সকাল ১১টায় উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটকে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী- সহ চারুকলা অনুষদের ডিন, প্রক্টর ও আরবরি কালচার সেন্টারের পরিচালক এ সময় উপস্থিত থাকবেন।
গ্রাফিতির মূল বৈশিষ্ট্য, চেতনা ও তাৎপর্য অক্ষুণ্ন রেখে আগামী ১, ২ ও ৩ আগস্ট উপাচার্য ভবন থেকে রোকেয়া হল পর্যন্ত গ্রাফিতি রংকরণ/পুনর্লিখন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। গ্রাফিতি রংকরণ/পুনর্লিখন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য আগামীকাল ১ আগস্ট ২০২৬ শনিবার সকাল ৯:০০ টার মধ্যে চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারীর সামনে উপস্থিত থাকার জন্য নিবন্ধিত শিক্ষার্থী ও শিল্পীদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে প্রাচ্যকলা বিভাগের খন্ডকালীন শিক্ষক গাজী মো. জহিরুল ইসলাম টিটো’র সঙ্গে (০১৭৬৩২৪৪৫৬৭) যোগাযোগের জন্য বলা হয়েছে।
রোকেয়া হল: ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে গতকাল ৩০ জুলাই ২০২৬ বৃহস্পতিবার রাতে রোকেয়া হলের ৭ই মার্চ ভবন অডিটোরিয়ামে ‘জুলাই স্মরণে আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বিগত ১৭ বছরের দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, সেসময় মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছিল। জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ফলে দুঃশাসনের কবল থেকে জাতি মুক্তি পায়। তিনি বলেন জুলাইয়ের চেতনাকে শুধু ক্যালেন্ডারের পাতায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে হবে। জুলাই চেতনা ধারণ করার পাশাপাশি তিনি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে ভূমিকা রাখার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ক’ রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও বিশেষ স্থান অর্জনকারী ৪ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন- সাদিয়া আক্তার (ভূতত্ত্ব), সিনথিয়া মেহরিন সকাল (ক্রিমিনোলজি), মুকমিনা আক্তার (বাংলা) এবং রুমি সুলতানা (ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস)।
কবি সুফিয়া কামাল হল: এ উপলক্ষ্যে কবি সুফিয়া কামাল হলে আজ ৩১ জুলাই দোআ মাহফিল, পোস্টার প্রদর্শন প্রতিযোগিতা, জুলাই শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন, স্মৃতি কথন, কুইজ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, পুরস্কার বিতরণ এবং ফটোসেশন অনুষ্ঠিত হয়। হলটির উদ্যোগে ‘‘জুলাইয়ের চেতনা : বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
সলিমুল্লাহ মুসলিম হল: এ উপলক্ষ্যে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে আজ ৩১ জুলাই আলোচনা সভা, রচনা প্রতিযোগিতা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ: এ উপলক্ষ্যে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের উদ্যোগে ‘ July Uprising: Contribution to the State Building and Development in Bangladesh শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ০৩ আগস্ট প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকলকে উপহার হিসেবে ‘বই’ প্রদান করা হবে।

৩১/০৭/২০২৬
মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম
পরিচালক
জনসংযোগ দফতর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়