সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে দেশের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের অপতৎপরতা সংক্রান্ত একটি সংবাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সুস্পষ্টভাবে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের শামিল। এ ধরনের তৎপরতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় তথা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় মুক্তবুদ্ধির চর্চা, আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাষ্ট্রবিরোধী, আইনবিরোধী কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়সহ গোটা দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা, নৈতিক অবস্থান এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ ১৯৭৩ এর ৫৬(৩), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম স্ট্যাটিউটস-এর ৪৫(৩) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডিন্যান্স এবং রেগুলেশন চ্যাপ্টার ২০ এর বিধি ১৩ অনুযায়ী, এই ধরনের কর্মকাণ্ড অশিক্ষকসুলভ ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডিন্যান্স এবং রেগুলেশন চ্যাপ্টার ২০ এর বিধি ১৩(২) অনুযায়ী, এই ধরনের অপরাধে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরি থেকে অপসারণ ও চাকরি থেকে বরখাস্তের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। যারা এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত এই বিধি-বিধান এবং দেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুনরায় স্পষ্টভাবে জানাতে চায় যে, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, সংবিধান, আইন, বিচারিক সিদ্ধান্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদার পরিপন্থি কোনো কর্মকাণ্ডের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শূন্য সহনশীলতা নীতি অব্যাহত থাকবে। আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি লঙ্ঘনকারী কোনো ব্যক্তি, তাঁর পরিচয় বা অবস্থান নির্বিশেষে দায় এড়াতে পারবেন না।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।

৫/৮/২৬
ফররুখ মাহমুদ
উপ পরিচালক
জনসংযোগ দফতর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।