ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগ এবং বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতির যৌথ উদ্যোগে ‘Making and Unmaking: A Study of Amendments to the Bangladesh Constitutions’ শীর্ষক এক বিশেষ সেমিনার ১২ মে ২০২৬ মঙ্গলবার আর সি মজুমদার আর্টস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আহমেদ আবদুল্লাহ জামালের সভাপতিত্বে সেমিনারে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার ও ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আশফাক হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এস এম রেজাউল করিম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘এদেশে কখনও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কখনও বা সরকারের প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। আমরা চাই কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আগ্রহ বা প্রয়োজনে নয়, বরং জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার হোক। তাহলে সেই সংস্কার বা সংশোধন টেকসই হবে এবং জাতি এতে উপকৃত হবে।’ বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন সংশোধনীর রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে গণতন্ত্র, ক্ষমতার ভারসাম্য ও নাগরিক অধিকারের বিষয়টি বিশ্লেষণ করে প্রবন্ধকার শাহদীন মালিক বলেন, ‘সংবিধান কেবল একটি আইনি দলিল নয়, বরং রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দর্শন ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।’ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আবুল কালাম সরকার বলেন, ‘ইতিহাস ছাড়া আমাদের চলার সুযোগ নেই। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকার নিজেদের প্রয়োজনে ইতিহাস বিকৃত করেছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে।’ এছাড়া সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আশফাক হোসেন পিএইচডি বলেন, "ব্রিটেনের লিখিত কোনো সংবিধান না থাকলেও তারা সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী আইন তৈরি করে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে চলছে। কিন্তু বাংলাদেশের সংবিধানে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অন্যান্য কারণে এতোবার সংশোধন আনা হয়েছে যা এগুলোর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্নের উদ্রেক তৈরি করে। তাই সংবিধানের সংশোধনীগুলোর বিষয় ও অন্যান্য দিক অনুসন্ধান উপস্থাপনের জন্য এই ধরনের বিশেষ সেমিনার আয়োজনের প্রয়োজন রয়েছে"। সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আহমেদ আবদুল্লাহ জামাল সেমিনারে অংশগ্রহনকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।