ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ, উইনরক ইন্টারন্যাশনাল ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির (বিসিপিএস) যৌথ উদ্যোগে “Ensuring Quality Mental Health Services in Bangladesh” শীর্ষক জাতীয় সেমিনার আজ ০৩ নভেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে এই সেমিনার আয়োজন করা হয়। এবছর দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল “Lived Experienced Heard : Real voices, Real change ”। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক সহকারী ডা. এস. এম. জিয়া উদ্দিন হায়দার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. শাহানূর হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ দীপ্তা রক্ষিত বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এম. কামরুজ্জামান মজুমদার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সিনিয়র পাবলিক হেলথ অফিসার ড. হারুকা সাকামোতো আলোচনায় অংশ নেন। উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ম্যানেজার শেখ নাজমূল ইসলাম তৃণমূল পর্যায়ের মানসিক স্বাস্থ্য সেবার বাস্তব অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী স্বাগত বক্তব্য দেন।
প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ, পারস্পরিক দায়বদ্ধতা ও দায়িত্ববোধ কমে যাচ্ছে। মানুষ এখন মহাকাশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখলেও প্রতিবেশীর খবর রাখে না। এ ধরনের সামাজিক বিচ্ছিন্নতা দূর করতে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এলক্ষ্যে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী, কাউন্সেলর ও প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এ বিষয়ে নেতিবাচক ধারণা ও কুসংস্কার দূর করতে হবে। নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী-সহ সবার জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক সহকারী ডা. এস. এম. জিয়া উদ্দিন হায়দার বলেন, বর্তমানে প্রায় ১৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৩ শতাংশ শিশু মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে এ সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রার ধরনের পরিবর্তন এবং প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের একাকিত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ করতে হবে। শুধু সমস্যার লক্ষণ নয়, এর মূল কারণ চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে গবেষণা বাড়ানোর উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, গবেষণার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
উল্লেখ্য, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯২ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় প্রধান দুটি বাধা হলো-স্টিগমা ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবার অপ্রতুলতা, যা দূর করার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটি (বিসিপিএস) ১৯৯৭ সাল থেকে কাজ করছে।

০৩/১১/২০২৬
(মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম)
পরিচালক
জনসংযোগ দফতর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়