ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ এবং সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ এর যৌথ উদ্যোগে ‘Challenges of Rohingya Repatriation: International Politics and National Priorities’ শীর্ষক এক সেমিনার আজ ২৪ আগস্ট ২০২৬ সোমবার সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারের সমাপনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম প্রধান অতিথি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ এস এম আলী আশরাফ। স্বাগত বক্তব্য দেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিভাগীয় সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিক রহমান।
সেমিনারে ‘Balancing Humanitarianism and National Security’ শীর্ষক ১ম প্যানেল আলোচনায় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ রোযানা রশীদ এবং ওসমানী সেন্টার ফর পিস এন্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ-এর চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) ড. মো. মাহফুজুর রহমান অংশ নেন। আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন মি. তুন কিন (Mr. Tun Khin), মিজ লিলিয়ান ফ্যান (Ms. Lilianne Fan) এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা যুব প্রতিনিধি ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে সংযুক্ত হন। সঞ্চালন করেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস এর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. সাহাব এনাম খান।
‘Bringing Repatriation back into the Discourse’ শীর্ষক ২য় প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. কামরুজ্জামান ও মায়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সুফিউর রহমান। ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে সংযুক্ত হন মায়ানমার কনফ্লিক্ট এনালিস্ট আশফাক রনি এবং মায়ানমারের রেহিঙ্গা রাজনীতিক মি. ও আউং ক্যাও মো (Mr. U Aung Kyaw Moe)। সঞ্চালন করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদ উজ জামান।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বর্তমান সময়ের একটি অন্যতম মানবিক ও ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। এটি আমাদের জাতির উপর অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো প্রত্যাবাসন। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং স্বয়ং রেহিঙ্গা জনগণের অভিন্ন লক্ষ্য। এই সমস্যা সমাধানে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীজনদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো মোকাবিলায় অর্থবহ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের জন্য সরকার ধারাবাহিকভাবে জোরালো আন্তর্জাতিক সমর্থনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে আলোচ্যসূচিতে রাখার জন্য জাতিসংঘ ও আসিয়ানের মতো বহুপাক্ষিক ফোরামগুলোকে কাজে লাগিয়ে মিয়ানমারে জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক কূটনীতিকে অবশ্যই অক্লান্ত ও অবিচল থাকতে হবে। একই সঙ্গে সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের জন্য রোহিঙ্গা সংকট শুধু একটি বিষয় নয়, এটি একই সঙ্গে মানবিক নিরাপত্তার উদ্বেগ, কূটনৈতিক পর্যায়ে জাতীয় নিরাপত্তার একটি চ্যালেঞ্জ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি। বর্তমান সরকার দেশের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশের উন্নতির জন্য যা কিছু সম্ভব, তা করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশ গত নয় বছরে অসাধারণ উদারতা প্রদর্শন করেছে। কিন্তু এই উদারতাকে কোনো একটি সমস্যার প্রতি অনির্দিষ্টকালের দায়বদ্ধতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা যায় না। বাংলাদেশ এই সমস্যা তৈরি করেনি। আবার, বাংলাদেশ একা এই অন্তর্নিহিত সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। রোহিঙ্গাদের স্থায়ী দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করা বাংলাদেশের মতো একটি রাষ্ট্রের জন্য নৈতিকভাবে বা কৌশলগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। শুধু অপেক্ষা করা এবং পরিস্থিতির উন্নতির আশা করার অর্থ হলো, পরিস্থিতি প্রতিদিন আরও খারাপ হবে। আমাদের জন্য একটিই প্রকৃত পথ খোলা আছে। তাহলো - প্রত্যাবাসনের জন্য সক্রিয় ও ধারাবাহিক চাপ, যা একটি সুসংহত কূটনৈতিক এবং বিশ্বাসযোগ্য ও টেকসই নিরাপত্তা কৌশল দ্বারা সমর্থিত হবে। এব্যাপারে তিনি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কামনা করেন।

২৪/০৮/২০২৬
(মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম )
পরিচালক
জনসংযোগ দফতর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়